১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

​সাজেক ভ্যালি বন্ধে বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা, ১০ দিনে ২০ কোটি টাকা ক্ষতির শঙ্কা

আপলোড সময় : ১৩-১০-২০২৬
​সাজেক ভ্যালি বন্ধে বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা, ১০ দিনে ২০ কোটি টাকা ক্ষতির শঙ্কা সংগৃহীত

দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙামাটি : নিরাপত্তাজনিত কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকলে ১০ দিনে প্রায় ২০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হতে পারে।

বর্তমানে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে কোনো পর্যটক নেই। প্রশাসনের নির্দেশে সেখানে অবস্থানরত সব পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা ও দুপুর আড়াইটায় দুই দফায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় প্রায় এক হাজার পর্যটক সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার আগেই সব পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। নতুন করে কাউকে সাজেকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এর আগে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ১১ অক্টোবর জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে পর্যটনকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। ১২ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারও আগে ১১ অক্টোবর ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এতে সাজেকগামী যান চলাচল বন্ধ হয়ে বিপাকে পড়েন পর্যটকরা।

এদিকে ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা ও শীতকালীন পর্যটন মৌসুম। এমন সময়ে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রিসোর্ট-কটেজের মালিক, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, পরিবহন চালকসহ এ খাতের সঙ্গে জড়িত শত শত মানুষ।

মেঘ সমুদ্র রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যোথেন ত্রিপুরা বলেন, "আগামী ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমাদের রিসোর্টের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং ছিল। হঠাৎ বন্ধের ঘোষণায় আমরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। অনেক পর্যটক বুকিং বাতিল করছেন, তাদের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে।"

খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের মাহিন্দ্র চালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, "গত তিন দিনে আমার তিনটি ভাড়া বাতিল হয়েছে। পর্যটক না থাকলে আমাদের আয়ও বন্ধ।"

সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, "সাজেকে বছরের বেশিরভাগ সময় পর্যটক কম থাকে। সাপ্তাহিক ছুটি, ঈদ, দুর্গাপূজা ও শীতের মৌসুমের ব্যবসা দিয়েই সারা বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে হয়। পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় এখন আমরা বড় সংকটে। সাজেকে বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৩৫টি রিসোর্ট, ২০ থেকে ২৫টি রেস্তোরাঁ রয়েছে। এর সঙ্গে পরিবহন চালক, গাইড, কর্মচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও জড়িত।"

পর্যটন ব্যবসায়ীরা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সাজেক ভ্যালি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন দুর্গাপূজা ও শীত মৌসুমের আগে পর্যটনকেন্দ্র চালু হলে সম্ভাব্য ক্ষতি কিছুটা হলেও এড়ানো যাবে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ